
সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে জয়ী হওয়া চার ইউপি চেয়ারম্যান এবং বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী আদেশ আলী সরদারকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদে ফিরিয়ে দিয়েছে নাটোরের সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ।
এসময় বিদ্রোহী চেয়ারম্যানদের হাতে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি ) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।
ওই চার বিদ্রোহী ইউপি চেয়ারম্যান হলেন, রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, চামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বপন মোল্লা, কলম ইউনিয়নের বিদ্রোহী ইউপি চেয়ারম্যান মইনুল হক চুনু, লালোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একরামুল হক শুভ এবং বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী আদেশ আলী সরদার।
আজ শনিবার প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নিজ বাড়িতে সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় চারজন বিদ্রোহী ইউপি চেয়ারম্যান এবং বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদে ভোট করা আদেশ আলী সরদারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জয়ী হওয়া বিদ্রোহীদের দলে ফিরিয়ে আনায় হতাশ ও ক্ষুদ্ধ হয়েছেন ওই নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তারা মনে করছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের এমন সিদ্ধান্তে আগামী প্রতিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উস্কে দেবে। তবে বিদ্রোহী চেয়ারম্যানদের দলে নেওয়ার ঘটনাটি দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী মনে করে বিষয়টি কেন্দ্রে জানানোর কথা জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
দলীয় সুত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের নাসির উদ্দিনকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হন মইনুল হক চুনু, চামারি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের রশিদুল ইসলাম মৃধাকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হন হাবিবুর রহমান স্বপন মোল্লা, রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের ইদ্রিস আলীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হন জাকির হোসেন এবং লালোর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের নজরুল ইসলামকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হন একরামুল হক শুভ।
এদিকে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আদেশ আলী সরদার। সেসময় আদেশ আলী সরদারের পক্ষে প্রচারণা চালান বর্তমান উপজেলা কমিটির অধিকাংশ নেতা।
তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত থাকায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনে আদেশ আলী সরদার পরাজিত হলে দীর্ঘসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির বাইরে ছিলেন তিনি। শনিবার তিনি পুনরায় দলের সদস্যপদ ফিরে পেলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, বিদ্রোহী চেয়ারম্যানদের দলীয় পদ দিয়ে ঘৃণীত কাজ করা হয়েছে। এতে করে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হয়েছে। দলে বিদ্রোহীদের পদ দিয়ে উৎসাহিত এবং পুরস্কৃত করা হলো। এতে তৃণমুলের ত্যাগি নেতা কর্মীরা হতাশ হবে। আগামী নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট করতে যে কেউ উৎসাহিত হবে।
লালোর ইউনিয়ন পরিষদের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের এমন সিদ্ধান্ত আমাদের আশাহত করেছে। দলের বিরুদ্ধে ভোট করলেও যে দলে ফিরিয়ে নেয়া হয় সেই বার্তাই দেয়া হল। ভবিষ্যতে দল ক্ষতিগ্রস্থ হবে কেননা কেউ মনোনয়ন না পেলেই বিদ্রোহী প্রার্থী হবে।
চামারি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী রশিদুল ইসলাম মৃধা বলেন, গত নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন পাই। আমার বিরুদ্ধে ভোট করে চেয়ারম্যান হন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি স্বপন মোল্লা। বহিষ্কারের পর তাকে আবারও দলে নেয়া হল। এটা মেনে নেয়া কঠিন। তবুও মেনে নিচ্ছি যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। তবে আগামীতে দলের মধ্যে এর বিরুপ প্রভাব পড়বে।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ ওহিদুর রহমান ওই চার ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী পরাজিত প্রার্থীকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদে ফিরিয়ে নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলে নেয়া যাবে না, আমরা এমন কোন নির্দেশনা পাইনি। যেহেতু উপজেলা নির্বাচনের বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে, তাই তখনকার বিদ্রোহী প্রার্থী আদেশ আলী সরদারের সাথে চারজন ইউপি চেয়ারম্যানকেও দলে নেয়া হয়েছে। এটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত।’
এ বিষয়ে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান সাংবাদিকদের বলেন, ইউপি নির্বাচনে যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট করেছেন, তাদের এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়নি। তাদের দলীয় পদ দেওয়ার সুযোগ নেই।
আমাদের অসংখ্য ত্যাগী নেতা-কর্মী রয়েছে। তাই বিদ্রোহীদের দলে অন্তভুক্ত করার সুযোগ নেই। সিংড়ার বিষয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে জানানো হবে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© স্বত্ত্বঃ নাটোর টাইমস: ২০১৭-২০২৪ --- “নাটোর টাইমস” এ প্রকাশিত/প্রচারিত যেকোন সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও বা ভিডিওচিত্র বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নিষিদ্ধ।
Leave a Reply