1. alimsnb0@gmail.com : Abdul Alim :
  2. zunaid365@gmail.com : Natore Times :
  3. robinsnb18@gmail.com : Robin :
নাটোরে রোগীতে পূর্ণ করোনা ওয়ার্ড, পাল্টে গেল হাসপাতালের দৃশ্যপট - Natore Times :: নাটোর টাইমস

নাটোরে রোগীতে পূর্ণ করোনা ওয়ার্ড, পাল্টে গেল হাসপাতালের দৃশ্যপট

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১

কদিন আগেও নাটোর সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে যে কেউ যখন–তখন ঢুকতে পারতেন। আজ রোববার দুপুরে অনেক দিনের সেই পরিচিত ওয়ার্ডটি দেখে অচেনা মনে হচ্ছিল। ‘ইয়েলো জোন’ লেখা ওই ওয়ার্ডে সর্বসাধারণকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

উঁকি দিয়ে দেখা গেল, ওয়ার্ডটি দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। বাম পাশের ১৫টি বেড রোগীতে ভরা। তাঁদের সবারই করোনা শনাক্ত হয়েছে। ডান পাশের বেডে কয়েকজন করোনার উপসর্গ নিয়ে শুয়ে আছেন।

সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক পরিতোষ কুমার রায় জানালেন, নাটোরে করোনার সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত রেড জোন ওয়ার্ডের ৩১টি বেড অনেক আগেই পূর্ণ হয়েছে। বাধ্য হয়ে ইয়েলো ওয়ার্ডে শনাক্ত হওয়া রোগীদের রাখতে হচ্ছে। সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসার কথা চিন্তা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইয়েলো জোনে শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর উপস্থিতি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওয়ার্ডের মাঝে সারিবদ্ধভাবে আলমারি রেখে রোগীদের আলাদা করা হয়েছে। এরপরও কিছুটা ঝুঁকি হয়তো থেকেই যাবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁকে ইয়েলো জোনে রাখা হতো। পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হলে রাখা হয় রেড জোনে। আর নেগেটিভ হলে পাঠানো হয় হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডে।

নাটোরে গত ১১ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত এক সপ্তাহে রোগী শনাক্ত হয় ১৪ জন। পরের সপ্তাহে, অর্থাৎ ১৭ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয় ৪৯ জন। সর্বশেষ ২৪ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩০ জন।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের করোনার জন্য নির্ধারিত ৩১টি বেডের বিপরীতে রোববার দুপুর পর্যন্ত ৩৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। কমবেশি সবাইকে ২৪ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করতে হচ্ছে। এসব রোগীকে বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এত রোগীকে একসঙ্গে অক্সেজেন সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। যার কারণে বড় সিলিন্ডার থেকে পাইপের মাধ্যমে রোগীদের বেডে বেডে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে সর্বোচ্চ একজন রোগীকে ১৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া যাচ্ছে। এর বেশি দরকার হলে ওই রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

চিকিৎসক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন উৎপাদন করা সম্ভব হলে তখন আর সংকট থাকবে না। প্ল্যান্ট স্থাপন শেষ না হওয়ায় হাসপাতালের একমাত্র হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলাটি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া আইসিইউ সুবিধা তো এই হাসপাতালে বরাবরই নেই।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নাটোরে গত ১১ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত এক সপ্তাহে রোগী শনাক্ত হয় ১৪ জন। পরের সপ্তাহে, অর্থাৎ ১৭ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয় ৪৯ জন। সর্বশেষ ২৪ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩০ জন। গত ছয় দিনে নাটোরে শনাক্তের হার ছিল গড়ে ৪০ শতাংশের ওপরে।

এ পর্যন্ত নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলে জেলার মোট ২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার।

জেলা সিভিল সার্জন কাজী মিজানুর রহমান জানান, স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় নাটোরে সংক্রমণের হার ক্রমে বাড়ছেই। এতে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। তা–ও যেসব রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে, শুধু তাঁদেরই ভর্তি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সবার স্বার্থে সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তা না হলে পরে আফসোস করে লাভ হবে না।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

© স্বত্ত্বঃ নাটোর টাইমস: ২০১৭-২০২১ --- “নাটোর টাইমস” এ প্রকাশিত/প্রচারিত যেকোন সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও বা ভিডিওচিত্র বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নিষিদ্ধ।

Site Customized By NewsTech.Com