মহামারী করোনা ভাইরাসে জনসচেতনতা তৈরীতে এবার নাটোরের সিংড়ায় রাস্তায় নেমেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
শুক্রবার ঢাকা থেকে নিজ নির্বাচনী এলাকা সিংড়ায় ফিরেই সিংড়াবাসীর জন্য খাদ্য, সুরক্ষা বুথ ও এক লাখ পিস মাস্ক বিতরণ করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সহস্রাধিক দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪টায় আলহাজ্ব রহিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস, ইউএনও এমএম সামিরুল ইসলাম, পৌর সচিব আব্দুল মতিন, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মোল্লা, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন প্রমুখ।
সিংড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে পাঁচ হাজার ৬২১টি দুঃস্থ পরিবারের মাঝে এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া প্রায় সাত হাজার পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ভিজিএফ বিতরণ শেষে সিংড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অনুকূলে ৪০টি করোনা সুরক্ষা বুথ ও সাংবাদিকসহ সিংড়া পৌরবাসীর জন্য এক লাখ পিস মাস্ক হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী।
এরপর করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে পৌরসভার দমদমা এলাকায় করোনা প্রতিরোধক সুরক্ষা বুথ উদ্বোধন ও সাধারণ মানুষদের ব্যবহারের নিয়ম শিখিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী পলক।
পরে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন সেন্টারে করোনা রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় করোনা রোগীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকের মাঝে ৫০০ পিস N-95 মাস্ক প্রদান করেন তিনি৷
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, করোনার এই সংকটকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ গরীব অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না৷ এদেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের জন্য প্রাথমিকভাবে করোনা ভ্যাকসিনের সংস্থান করবে সরকার। পর্যায়ক্রমে সকলের জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কষ্ট হলেও মাস্ক পড়তে হবে। মাস্ক পড়লে হাসপাতালে অক্সিজেনের জন্য কাতরাতে হবে না। নিজের পাশাপাশি পরিবারের ছোট, বড়, বয়োবৃদ্ধ সকলের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। সিংড়াবাসী যেন মাস্কের জন্য চিন্তা না করে। যতো মাস্ক লাগে আমি সরবরাহ করব। আপনারা শুধু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’