একজোড়া মহিষের জন্য একটু পরপর ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছেন গারোয়ান রসুল ফকির। মহিষজোড়াই তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। মহিষ দুটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। চার লাখ টাকা ঋণ করে মহিষজোড়া কিনেছিলেন রসুল ফকির।
সোমবার(৩রা মার্চ) ভোররাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াশ চারমাথা এলাকার গাড়া বাড়ি ব্রীজ থেকে একদল দূর্বৃত্ত মহিষজোড়া ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গাড়িয়াল রসুল ফকির বিয়াশ চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, বিয়াশ চকপাড়া গ্রামের রসুল ফকির, গাড়াবাড়ি গ্রামের বাচ্চু, ঠেঙ্গাপাকুড়িয়া গ্রামের ছালাম ও সরিষাবাড়ি গ্রামের আব্দুল আলীম পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোতে মহিষের গাড়ী চালিয়ে ধান ও ভুট্টা
পরিবহন করতেন। সোমবার ভোর ৪টায় গাড়াবাড়ি গ্রামের হযরত নামের এক কৃষক তার ভুট্টার বহনের জন্য ওই চার গারোয়ানকে ভাড়া করেন। গাড়োয়ান বাচ্চু, সালাম ও আলীম একই সময়ে মহিষের গাড়ি নিয়ে হযরতের ভুট্টার গুদামে পৌছে গেলেও রসুলের দেরি হয়ে যায়। একাকী মহিষের গাড়ী নিয়ে চার মাথার গাড়াবাড়ি ব্রীজে পৌছাতেই পাঁচ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তার গতিরোধ করে। এসময় দুর্বৃত্তরা রসুলকে গামছা দিয়ে মুখ বেধে মারপিট শুরু করে। অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মহিষ দুটি নিয়ে চলে যায় দুর্বত্তরা। ভোরের আলো ফোঁটার পর স্থানীয়রা রসুল ফকিরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে পৌছে দেন।
কান্নাজড়িত কন্ঠে রসুল ফকির বলেন, ‘আমি আশা এনজিও এবং কয়েকজন ব্যক্তির থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দুই মাস আগে মহিষজোড়া কিনেছিলাম। বোরো ধান ও ভুট্টা কাটার মৌসুমে প্রতিদিন গাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম। ভাড়ার টাকা থেকে সংসার খরচ চালিয়ে ধীরে ধীরে ঋণের টাকাও পরিশোধ করছিলাম। এখন আমি ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবো আর সংসার কি ভাবে চালাবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।’
সিংড়া থানার অফিসার ইনর্চাজ নুর-এ আলম সিদ্দিকী বলেন, ভুক্তভোগী সোমবার রাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে।